Fri. Apr 10th, 2020

চিনি তামাকের চেয়ে ক্ষতিকারক ক্যান্সার ও হৃদরোগ তৈরীতে সহায়ক, জেনেনিন

গত নভেম্বরে দ্যা ওয়ার্ল্ড সোশ্যাল ওয়েবসাইটি পাবলিক লাইব্রেরি অব সায়েন্সের বরাত দিয়ে লিখেছে যে, ১৯৫০ ও ১৯৬০ দশকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বৈজ্ঞানিক দলের গবেষনায় প্রমানিত হয় যে, চিনিজাত বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য সেবনের ফলে করোনারি হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ব্লাডার ক্যান্সার মানব দেহে তৈরীতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

চিনির তৈরী কেক

১৯৬৫ সালে ক্রিস্টিন ই কের্নস ও স্ট্যান্ট এ গ্ল্যাল্টস প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাজ্যের সুগার ফাউন্ডেশন প্রতিস্টান গোপনে একটি গবেষনা করার জন্য তাদেরকে অর্থায়ন করেন। সেই গবেষনার ফলাফলে দেখা যায় যে, চিনি শরিরের ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা অতিরিক্ত বাড়িয়ে দেয়, যা হার্ট ডিজিজ ও হার্ট এটাকে প্রধান ভুমিকা পালন করে। উক্ত রিচার্চে আরো প্রমানিত হয় যে, অতিরিক্ত চিনি গ্রহনের ফলে প্রস্রাবে বিটাগ্লুকোরোনাইডেজ এনজাইমের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং ব্লাডার ক্যান্সার তৈরীতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। যুক্তরাজ্যের সুগার ফাউন্ডেশন প্রাথমিক গবেষনার ফলাফলে দেখতে পেল যে, চিনি সেবনের ফলে হার্ট ডিজিজ ও ব্লাডার ক্যান্সার তৈরী করে তাই তারা ভাবলো যে, এই গবেষনা প্রতিবেদন জন সন্মুখে প্রকাশিত হলে তাদের চিনি ব্যবসাতে ধস নামবে তাই তারা উক্ত গবেষনার কাজে বার্মিংহাম ইউনিভার্সসিটিকে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়ে ঐ চিনি গবেষনার রিপোর্টি আর প্রচার হতে দেয়নি।

তখন চিনি ব্যবসায়িরা বিভিন্ন গবেষককে ঘুষ দিয়ে চিনির সুনাম প্রচার করে এবং ফ্যাট খাবার খেলে কোলেস্টেরল হয় এবং সেই কোলেস্টেরলের জন্য মানব দেহে হার্ট ডিজিজ ও ক্যান্সার হয়। কিন্তু শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না সত্য একদিন বাহির হবেই তাই গত সেপ্টম্বর ১২, ২০১৬ তারিখে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকাতে চিনি সংক্রান্ত এই লোকায়িত কেলেংকারি প্রকাশ করে। এই বিখ্যাত গবেষনার তথ্য ফাঁস করে দেয় যে, ১৯৬৭ সালে দ্যা নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত হার্ভার্ডের রিচার্চ প্রবন্ধে চিনিকে বাদ দিয়ে হার্ট অ্যাটাকের জন্য একতরফাভাবে চর্বি ও কোলেস্টেরলকে দায়ী করা হয়েছিল তাদের স্বার্থের অপচেস্টা।চর্বি বা কোলেস্টেরল হার্ট অ্যাটাকের আসল কারন নয় কিন্তু অতিরিক্ত চিনি বা চিনি দিয়ে তৈরী খাবার খাওয়ার ফলে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় এছাড়া কার্ডিয়াক ফেইলিওরের কারনে মারা যায়। ডায়াবেটিসের রোগীদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে বেশি মারা যাওয়ার পিছনে চিনি সেবনের কারন রয়েছে। তাই সুস্থ্যভাবে বাঁচতে হলে চিনিকে আমাদের পরিহার করা উচিৎ।

লেখকঃ আলম লিটন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হায়দার আলী | ঠাডা ইন্টারভিউ বরিশাইল্লা | Haydar Ali Comedy

ভালোবাসার দাম না দিলা | ঐশীর নতুন গান | Oyshee new song