Tue. Jan 28th, 2020

১০টি বিষয়ের সাথে জড়িত থাকলে আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না

সাম্প্রতিক অভিযানে আওয়ামী লীগ শুধু ধরপাকড় নয় বরং দলকেও শুদ্ধ করতে চায়। দলের মধ্যে একটা শুদ্ধাচার নীতি বা কৌশল প্রণয়ন করতে চায়। আওয়ামী*লীগের দা*য়িত্বশীল সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী*লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে দেশে তোলপাড় চলছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিভিন্ন ছোটবড় নেতার বাড়ি কিংবা অফিসে অভিযান চালাচ্ছে। উ*দ্ধার করছে কোটি কোটি টাকা। জাতির পিতার আদর্শে গড়া একটি সংগঠনের জন্য এরকম কলঙ্ক দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। এ*জন্যই আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা মনে করছে যে, আওয়ামী*লী’গের ভিতরে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা*উচিত।

একজন সংগঠনের নেতাকর্মী কি করতে পারবেন কি করতে পারবেন না সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট গাইড লাইন থাকা দরকার। এজন্যই আগামী কাউন্সিল অধিবেশন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ একটি শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করছে। এই শুদ্ধাচার কৌশল অনুসরন না করলে দলের ভিতর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী*লীগের সাধারণ*সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোন দল থেকে কে এসেছেন তার হিসেব করে এখন লাভ নেই।

বড় কথা হচ্ছে তারা আওয়ামী*লীগার এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া*হচ্ছে তখন তারা আওয়ামী লীগপন্থী। তিনি বলেন, এই বা*স্তবতায় আমাদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। কি করা যাবে কি করা যাবে না এই সম্বন্ধে নেতা+কর্মীদের সুষ্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত এক*টি উপকমিটিকে এই শুদ্ধাচার কৌশল প্র*ণয়ণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ*কজন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এই কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ১০ টি বিষয়কে চিহ্নিত করেছে যে বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িত থাকলে এক*জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তিনি আওয়ামী*লীগ করতে পারবেন না।

এই ১০টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে

১. কমিটি বাণিজ্য করা যাবে না

গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কমিটি বাণিজ্য। আওয়ামী লীগ, ছাত্র*লীগ, যুব*লীগে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।  টাকার বিনিময়ে অযোগ্য সুবিধাবাদী এবং সন্ত্রাসী টেন্ডারবাজদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তারা কমিটির পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করেছে। এই কমিটি বন্ধ করা হবে। শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে অথবা কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে কেউ জড়িত থা*কলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২. কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া সংগঠনে কাউকে নেওয়া যাবে না

দেখা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভি*যোগ উঠেছে তার একটি বড় অংশই হাইব্রিড। তারা*বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। অ*নুমোদন ছাড়া দলে সুবিধা*বাদীরা জায়গা করে নিয়েছে। এটা বন্ধের জন্য আওয়ামী লীগের নতুন নীতি*মালায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া কাউকে দলে নেওয়া যাবে না।

৩. টেন্ডারের জন্য তদবির করা যাবে না

টেন্ডার বাণিজ্য আওয়ামী*লীগের বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে। ক্ষম*তায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের নেতাকর্মীরা টে*ন্ডার বা*ণিজ্যের দিকে ঝুঁকেছেন। প্রভাব বিস্তার করে টেন্ডার বিক্রী করে দেওয়া বা কাজ না করার একটি প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এজন্যই আওয়ামী লীগ তার নতুন নীতিমালায় নির্দেশ*না দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, টেন্ডারের জন্য কারো কাছে তদ্বির করা যাবে না। তবে অবশ্যই বৈধ ব্যবসা করা যাবে। যোগ্যতার ভি*ত্তিতে টেন্ডারের কাজ পেলে কোন অসুবিধা নেই।

৪. উন্নয়ন কাজে হস্তক্ষেপ করা যাবে না

দেখা গেছে অনিয়মের সূত্রপাত হয় বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন*গুলোতে তারা হস্তক্ষেপ করে। তখন প্রশাসন বাধ্য হয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব ওই নে*তাকে কাজ দিয়ে বড় রকম কমিশন হাতিয়ে নেয়। এটা বন্ধ কারার জন্য আওয়ামী*লীগের নেতাকর্মীদের জন্য উন্নয়নকাজে প্রশাসনের উপর হস্তক্ষেপকে নি*ষিদ্ধ করা হচ্ছে।

৫. আটক ব্যক্তির জন্য থানায় তদবির করা যাবেনা

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটা বড় অশুভ প্রব*ণতা দেখা দিয়েছে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ ছিনতাইকারীদের জন্য থানায় তদবির করা এবং এখান থেকে আওয়ামী*লীগের অনেক নেতাকর্মী বড় অংকের টাকা উপার্জন করে বলে আওয়ামী*লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ গেছে। সেই জন্যই আওয়ামী*লীগ নতুন নীতিমালায় নির্দেশনা দিচ্ছে আ*টক ব্যক্তির জন্য থানায় তদবির করা যাবেনা।

৬. নিয়োগ বাণিজ্য

আওয়ামী লীগের বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে নি*য়োগ বাণিজ্য। পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নিয়োগের জন্য আওয়ামী*লীগের ছোট বড় সব পর্যায়ের নেতারাই তদবির করে থাকেন এজন্য নিয়োগে তদ*বির নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

৭. মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবীদের প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা

সারাদেশের আইন প্রযোগকারী সংস্থার পাঠানোর তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী*লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে মাদক*সেবী এবং মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় প্র*ভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়ে*প্রশ্রয়ে ও মদদে। এজন্য মাদকসেবী এবং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কারও সঙ্গে আওয়ামী*লীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্পর্ক রাখতে পার*বেনা।

৮. সন্ত্রাসী হিসাবে মামলা আছে এমন কাউকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা

আওয়ামী*লীগের নেতারা বিশেষকরে উচ্চ পর্যায়ের নেতারা যারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন তাদের প্রভাব বিস্তার করার জন্য এবং শক্তি*মত্তা প্রদর্শন করার জন্য সন্ত্রাসী পালেন এবং এজন্য আওয়ামী*লীগ তার শুদ্ধাচার কৌশলে বলছে, সন্ত্রাসী হিসাবে মামলা আছে এমন কাউকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা।

৯. জঙ্গিবাদ

আওয়ামী*লীগের একটা বড় সমস্যা জঙ্গিবাদ। আওয়ামী*লীগের নেতা*কর্মীদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে যেন জঙ্গিবাদ লালন না হয় এজন্য আওয়ামী*লীগ তার শুদ্ধাচার কৌ*শলে বলেছে জঙ্গীবাদের জড়িত অভি*যুক্তদের পক্ষে কোন রকম তৎপরতা করা যাবেনা।

১০. না*রী নির্যাতন কিংবা যৌ*ন হয়রানি

এধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে আওয়ামী*লীগের কোন পর্যায়ের কর্মী বা নেতা থাকতে পারবেনা। দলের ভিতর তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যব*স্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী*লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেছেন, আগামী কাউন্সিরের আগে স্থানী*য় পর্যায়ে সম্মেলন গুলো হবে এই সম্মেলনে দশটি নীতি সুনির্দিষ্ট ভাবে বসানো হবে এবং যারাই এই দশ*টি নীতি লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি*মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হায়দার আলী | ঠাডা ইন্টারভিউ বরিশাইল্লা | Haydar Ali Comedy

ভালোবাসার দাম না দিলা | ঐশীর নতুন গান | Oyshee new song