Fri. Apr 10th, 2020

বাংলাদেশে গরুর গোয়াল ঘর থেকে বিদেশী আদলে দেশী ডেইরী ফার্ম গড়ে উঠছে

মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য দুধ ও মাংসের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির জন্য দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধ ও ১২০ গ্রাম মাংসের প্রয়োজন। তার বিপরীতে আমরা পাচ্ছি ৫১ মিলিলিটার দুধ ও ২০ গ্রাম মাংস। দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে দুধ ও মাংসের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে দুধ ও মাংসের ব্যাপক চাহিদা পূরণ করতে হলে আরও অনেক গাভীর খামার স্থাপন করা প্রয়োজন তাই বাংলাদেশের গরুর গোয়াল ঘর থেকে বিদেশী আদলে দেশী ডেইরী ফার্ম গড়ে উঠছে।
গাভীর নিকট থেকে বেশী পরিমান দুধ পাইতে হলে অবশ্যই গাভীর দেখবাল ও পরিচর্চা ঠিক ভাবে করতে হবে। গাভীর চলাচলের জন্য তার খুর গুলিকে পরিস্কার ও রোগমুক্ত রাখতে হবে যাতে করে গাভী নির্ভিগ্নে চলাচল করতে পারে কারন অযত্নে ও অবহেলা করলে যে কোন সময় গরুকে ভাইয়ারাস বা রোগে আক্রমন করবে তাই খুর ও চামড়া গুলিকে যত্নে রাখতে হবে। গাভীর শরীর ও চামড়ার লোমে অনেক ধুলাবালি জমে থাকে তাই এই গুলিকে রেগুলার আধুনিক প্রযুক্তি ব্রাস দিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে তাহলে একটি গাভী দীর্ঘ দিন বেশীকরে দুধ দিবে কারন প্রানীরা অনেক আরাম প্রিয় তাই তারা অনেক প্রভু ভক্ত হয় তাদের কে রেগুলার হাটিয়ে অথবা দৌড়িয়ে এক্সেরসাইজও করাতে হবে। যে গাভী বেশীকরে আহার করবে সেই গাভী দুধও দিবে বেশী। গাভীর দৌড়া দৌড়ী বা হাটাচলা করার পর তাদেরকে রেস্ট দিতে হবে এবং রেস্টের সময় খাবার দিতে হবে, সেই খাবার থেকেই দুধ তৈরী হবে এবং দুধ উৎপাদন করাই হচ্ছে একটি ডেইরী ফার্মের মূল উদ্দেশ্য।
গাভী যে জায়গাত থাকবে সেই আবাসন অত্যান্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও হাইজানিক এলাকা হতে হবে এবং দুধ দোয়ানোর আগে অবশ্যই সেই জায়গা নীড এন্ড ক্লিন পানি দিয়ে দুইয়ে নিতে হবে। তারপর গাভীর নিপলে অটোম্যাটিকে মেশিন লাগিয়ে গাভী থেকে দুধ আহরন করতে হবে এবং ভাল জায়গাতে দুধ স্ট্রোরেজ করতে হবে। যাতে করে দুধ ফ্রেস থাকা অবস্তাতেই কাস্টমারদেরকে সরবরাহ করতে পারে। মনে রাখতে হবে যে দুধ হচ্ছে খাবারের জিনিস তাকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে হবে।
গাভীকে পর্যাপ্ত পরিমান খাবার দিতে হবে। গাভীকে খাবারের বেলায় কৃপণতা করা যাবে না। কারন এই খাবার থেকেই গাভী দুধ দিচ্ছে। সুতরাং গাভীর খাবারের জিনিসটাকে সম্পুর্ণ ব্যবসা হিসেবে নিতে হবে। গাভীর খাবারের মেন্যু অবশ্যই একজন ডেইরী ফার্মের বিশেষজ্ঞ দ্বারা নির্ধারন করতে হবে। যাতে করে গাভীর খাবারের সমস্যা না হয়। গাভীকে খাবার দেওয়ার সময় দেখতে হবে যে প্রত্যেক গাভীর মুখের কাছে দিতে হবে এবং খাবার দূরে সরে গেলে উক্ত খাবার গুলিকে গাভীর মুখের কাছে এনে দিতে হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী গাভীকে আবার খাবার দিতে হবে গাভীর কাজেই হচ্ছে খাওয়া, দুধ দেওয়া আর হাটাচড়া করা এবং তাদেরকে পরিস্কার রাখা।
নতুন গাভী সৃষ্টির লক্ষে ফার্মে গাভীর বাছুর পালা হয় কারন
সাধারণত ডেইরী ফার্মে একটি গাভী ৩০ থেকে ৪০ লিটার দুধ দেয় আর যখন গাভীটি ২০লিটারের নিছে দুধ দেওয়া শুরু করে তখনই ঐ গাভীকে ফার্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয় এবং নতুন গাভী আনা হয়। প্রত্যেক ডেইরী ফার্মেরই টার্গেট আছে যে পুরাতন গাভীর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন গাভী আমদানী করবে তাই ফার্মেই নির্দিস্ট সময়ের জন্য গাভীর বাছুর বা বাচ্চা লালন পালন করে দুধ দেওয়া গাভীতে পরিনত করে। গাভীর বাচ্ছাদেরকে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃত্তিম উপায়ে দুধ খাওয়ানো হয়। তাদেরকে সঠিক পরিচর্চা করে বড় করতে হয় যারফলে ফার্মের মালীকেরা সহজেই গাভী রেপ্লাইসমেন্ট করতে পারে। তাদের দুধ উৎপাদনে কোন সমস্যা হয় না।
ফার্মে গাভী খাওয়ার জায়গাতে ঘাসগুলি খাওয়ার পর এলোমেলো অবস্তায় থাকলে সেগুলিকে পুনরায় গাভীর সামনে এনে দিতে হবে এবং অবশিস্ট অংশ সড়িয়ে ফেলে নতুন খাবার দিতে হবে। এছাড়া গাভির গোবর ও চেনা বা পস্রাবের ভিজা স্তান পরিস্কার করে শুকনা করতে হবে যাতে করে গাভী স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বসবাস করতে পারে। তাহলে গাভীর রোগজীবানো কম হবে এবং পরিবেশও ভাল থাকবে।
বাংলাদেশে বিদেশী আদলে কয়েকটি ডেইরী ফার্ম হয়েছে এবং তারা প্রচুর পরিমানে দুধ উৎপাদন করছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন দুগ্ধজাত পন্য উৎপাদনকারী কোম্পানী গুলীকে তারা চাহিদা মোতাবেক দুধ সরবারহ করছেন।

লেখকঃ আলম লিটন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হায়দার আলী | ঠাডা ইন্টারভিউ বরিশাইল্লা | Haydar Ali Comedy

ভালোবাসার দাম না দিলা | ঐশীর নতুন গান | Oyshee new song