Fri. Apr 10th, 2020

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সেতু চায়না- টু- হংকং

বর্তমান ডিজিটাল যুগে চাইনিজরা ব্রিজ তৈরিতে অনেক এগিয়ে। ব্রিজের পিলার তৈরী করার পর চাইনিজ ব্রিজ স্পান কেরিং মেশিন দিয়ে সহজেই বিশাল স্পান গুলি পিলারের উপর বসিয়ে দিয়ে ব্রিজের ঢালাইয়ের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করা যায়।
সুপ্রিয় দর্শক মন্ডলী আমি আজ আপনাদেরকে যে প্রতিবেদনটি দেখাতে যাচ্ছি তা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দীর্ঘ তম সেতু যা চিনের সাথে হংকং এর যুক্ত হয়েছে।

গত ২৪ অক্টোবর ২০১৮সালে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দীর্ঘ তম সেতু চীনের নতুন মেগা ব্রিজটি ৯ বছর নির্মাণের পরে রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেছিলেন।
৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অবকাঠামো, যা বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু এবং ২০ বিলিয়ন ডলার এই ব্রিজ তৈরী করতে খরচ হয়েছে। চিনের মূল ভূখণ্ডকে হংকং এবং ম্যাকাওয়ের সাথে সংযুক্ত করতে পার্ল নদীর মোহনা পেরিয়ে এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দীর্ঘ তম সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে । এটি সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজের চেয়ে ২০ গুণ বেশি দীর্ঘ।
সেতুটির এক অংশে ৭ কিলোমিটার সাগরের নীচ দিয়ে সুরং পথ করা হয়েছে যাতে জাহাজ ট্রানজিশন করে জাহাজগুলি পারাপারের পথ তৈরি করতে পারে এবং নিকটবর্তী হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও বিমানগুলি যাতে সহজে উঠা নামা করতে পারে।
এই ব্রিজ প্রকল্পে প্রায় চার লক্ষ টন ইস্পাত ব্যবহৃত হয়েছে, সিডনি হারবার ব্রিজটি তৈরিতে যে পরিমাণ ইস্পাত ব্যবহার হয়েছিল তার চেয়ে আটগুণ বেশি। ব্রিজের অবকাঠামোটি হচ্ছে সামুদ্রিক ফ্লোরে এম্বেড থাকা পিলার গুলীর সাথে এছারা বড় টাওয়ারগুলির সাথে ইস্পাতের কেবল দিয়ে ব্রিজটি ঝুলন্ত আছে এবং দুটি কৃত্রিম দ্বীপ এই ব্রিজের সাথে তৈরী করা হয়ছে।
এর প্রকৌশলীদের মতে, এটি 8-মাত্রার ভূমিকম্প, একটি সুপার টাইফুন বা তিন লক্ষ টনের জাহাজের সাথে সংঘর্ষের পরও এই ব্রিজের কিছুই হবে না।
এই ব্রিজের প্রকল্পটি তৈরী করার সময় ৮ ​​জন শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য এবং স্থানীয় সাদা ডলফিনের উপর এর ভীতিজনক প্রভাবের জন্য সমালোচিত হয়েছে। ২০০৩ সালের পর থেকে এই সমুদ্রে ১৮৮ প্রাণির মধ্য থেকে এই অঞ্চলে এখন কেবল মাত্র ৪৭ টি প্রাণী বেঁচে আছে।
এই ব্রিজে আত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সয়ংক্রিয় ভাবে যানবাহন পারাপারের জন্য টোল কালেকশন করা হয় এবং সব ধরনের যান বাহন পারাপার করতে পারে না কেবল মাত্র নির্দিস্ট পরিমান যানবাহন এই ব্রিজ দিয়ে পারাপার করতে পারে।
ব্রিটিশ সরকার চিনের সাথে এক চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন হংকং কে ব্রিটিশের উপনিবেশিক প্রদেশ হিসেবে শাসন ও শোষন করে আসছিল। কয়েক বছর আগে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার দরুন চিন ব্রিটিশদের নিকট থেকে হংকং দখল করে তাদের অধীনে নিয়ে আসে। তারই ফলস্রুতিতে চিন হংকং কে এই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সেতু নির্মান করে তাদের মেইন ল্যান্ডের সাথে সংযুক্ত করলো এবং হংকং ও ম্যাকাওয়া বাসীদের সহজ যোগাযোগের ব্যবস্তা হলো।

বিস্তারিত দেখতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

লেখকঃ আলম লিটন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হায়দার আলী | ঠাডা ইন্টারভিউ বরিশাইল্লা | Haydar Ali Comedy

ভালোবাসার দাম না দিলা | ঐশীর নতুন গান | Oyshee new song