Thu. Feb 20th, 2020

করোনা ভাইরাস চীনে মহামারী এবং বাংলাদেশে ডুকছে, এখনই বাঁচার উপায় জেনে নিন।

কিভাবে ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস?
বর্তমান সময়ে চীনে করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারন করেছে এবং চীনের সব গুলি শহর প্রায় অচল অবস্তায় আছে। দোকান পাট মার্কেট রাস্তা ঘাট স্কুল কলেজ চীনের সরকার বন্ধ ঘোষনা করেছে যাতে করে করোনা ভাইরাস ব্যাপক হারে না ছড়িয়ে পরে। এর মধ্যে চীনে বিদেশী পর্যটক প্রবেশ এবং বাহির হওয়া নিষেধ করেছে পরবর্তি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত।
মধ্য চীনের উহান শহর থেকে এই করোনা ভাইরাস রোগের সূচনা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে প্রথম চীনের কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

তবে ঠিক কিভাবে এর সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেনি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সম্ভবত কোনও প্রাণী এর উৎস ছিল। প্রাণী থেকেই প্রথমে ভাইরাসটি কোনও মানুষের দেহে ঢুকেছে এবং তারপর মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে উহান শহরে সামুদ্রিক একটি খাবারের কথা বলা হচ্ছে। শহরটির একটি বাজারে গিয়েছিল এমন ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই বাজারটিতে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী বেচাকেনা হতো

কিছু সামুদ্রিক প্রাণী যেমন বেলুগা জাতীয় তিমি করোনা ভাইরাস বহন করতে পারে। তবে উহানের ওই বাজারে মুরগি, বাদুড়, খরগোশ এবং সাপ বিক্রি হতো। সাপ এবং বাদুর থেকেই এই ভাইরাস এর মানব দেহে ছড়িয়েছে। অনেকের ধারনা।

চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০০ জনের উপরে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। ইতিমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই ভাইরাসটি কতটা ভয়ংকর এবং কিভাবে ছড়ায়, তা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদ মাধ্যমগুলি ।


করোনা ভাইরাস কী?

করোনা ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটি এক ধরনের করোনা ভাইরাস। ভাইরাসটির অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতোমধ্যে ‘মিউটেট করছে’, অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। ফলে এটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সোমবারই বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, এ ভাইরাস একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে ছড়াতে পারে।

কতটা ভয়ংকর এই ভাইরাস?

এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে। তবে এর পরিণামে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের দুই শতাংশ মারা গেছেন, হয়তো আরও মৃত্যু হতে পারে। তাছাড়া এমন মৃত্যুও হয়ে থাকতে পারে যা চিহ্নিত হয়নি। তাই এ ভাইরাস ঠিক কতটা ভয়ংকর, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এক দশক আগে সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল সেটিও ছিল এক ধরনের করোনা ভাইরাস। এতে আক্রান্ত হয়েছিল ৮ হাজারের বেশি মানুষ। আর একটি ভাইরাসজনিত রোগ ছিল মিডল ইস্টার্ন রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা মার্স। ২০১২ সালে এতে মৃত্যু হয় ৮৫৮ জনের।

করোনা ভাইরাসের লক্ষ্মণ কী?

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান লক্ষণ হলো, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর এবং কাশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তারপর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং তখনই কোনও কোনও রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

এর চিকিৎসা কী?

ভাইরাসটি নতুন হওয়াতে এখনই এর কোনও টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। এমনকি এমন কোনও চিকিৎসাও নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে মানুষকে নিয়মিত হাত ভালোভাবে ধোয়া নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। হাঁচি-কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং ঠান্ডা ও ফ্লু আক্রান্ত মানুষ থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছে তারা। এশিয়ার বহু অংশের মানুষ সার্জিক্যাল মুখোশ পরা শুরু করেছে।

আপাতত প্রতিকার হিসেবে এ ভাইরাস বহনকারীদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে বলছেন বিজ্ঞানীরা। ডাক্তারদের পরামর্শ, বারবার হাত ধোয়া, হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা ও ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরা।

হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. গ্যাব্রিয়েল লিউং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এ নির্দেশনায় বলছেন, হাত সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, বারবার হাত ধুতে হবে। হাত দিয়ে নাক বা মুখ ঘষবেন না, ঘরের বাইরে গেলে মুখোশ পরতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে মুখোশ পরুন, আর নিজে অসুস্থ না হলেও, অন্যের সংস্পর্শ এড়াতে মুখোশ পরুন।’

চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশে নতুন ‘করোনা ভাইরাস’ সংক্রমণের ফলে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। চীন জানিয়েছে, ‘করোনা ভাইরাসে’ আক্রান্ত হয়ে সেখানে মৃতের সংখ্যা ১০০ জনের উপরে। চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০০ জনের বেশি। চিনের উহান শহর ছাড়িয়ে এ ভাইরাস ইতোমধ্যে চীনের রাজধানী বেইজিংসহ ২৯টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কানাডায় এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘করোনা ভাইরাস’ আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। ফলে সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশও ‘করোনা ভাইরাসের’ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ‘করোনা ভাইরাস’ ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

এখনও নতুন ‘করোনা ভাইরাস’ আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া না গেলেও বাংলাদেশ যে ঝুঁকিতে রয়েছে সে কথা স্বীকার করছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, এটা সত্যি, বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। যেহেতু চীনের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ফলে সেখান থেকে করোনা ভাইরাস আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই করোনা ভাইরাস (২০১৯-এনসিওভি) দ্রুত ছড়ায়। আর ঢাকাও জনবহুল বা ওভার পপুলেটেড সিটি। এ ধরণের শহরে কোনও ভাইরাস ডিজিজ এলে খুব সহজেই সেটা একজনের মাধ্যমে অন্যজনে ছড়ায়। আর নতুন এই ‘করোনা ভাইরাস’ অন্যান্য ভাইরাসের মতো নয়। এটির ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমও একাধিক, এ জন্য আরও বেশি সতর্কতা দরকার।

1 thought on “করোনা ভাইরাস চীনে মহামারী এবং বাংলাদেশে ডুকছে, এখনই বাঁচার উপায় জেনে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হায়দার আলী | ঠাডা ইন্টারভিউ বরিশাইল্লা | Haydar Ali Comedy

ভালোবাসার দাম না দিলা | ঐশীর নতুন গান | Oyshee new song