মা এর প্রতি সিনথিয়া ভালবাসা

মা” দিবস, মা এর প্রতি সন্তানের দায়িত্ব সারাজীবন

লাইফস্টাইল

শেয়ার করুন

“মা দিবস”
মা দিবস বা যে কোন দিবসই হচ্ছে বিশেষ ভাবে স্বরণ করা। আমরা অন্য সাধারন দিনে যেমন সাধারন খাবার খাই তেমনি বিশেষ দিন গুলিতে উন্নত মানের খাবার খাই, তেমনি ভাবে মা দিবসে একটু বেশি বেশি মা কে আনন্দ দেওয়ার জন্যই দিবসটি পালন করা হয়। তাতে মা’ও সন্তানের প্রতি খুশি হয়। তবে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা আদর যত্ন সারা বছর সমান ভাবে সন্তানের প্রকাশ করা উচিত। একদিনের জন্য মা দিবসে মা কে স্বরণ করে সেলফি তোলে ফেইসবুকে মা এর ভালবাসা প্রকাশ করলাম আর সারা বছর মা কে কস্ট দিলাম এটা কোন সন্তানের কাম্য নয় বা কাম্য হওয়া উচিত নয়। পিতা মাতার ত্যাগ সন্তানের প্রতি তা কখনো ভুলে যাওয়া ঠিক না। তার প্রতিদান সন্তানে চামড়া বিক্রি করে দিলেও শোধ হবে না। সুতরাং পিতামাতাকে অবহেলা করা যাবে না।
মা এর প্রতি সিনথিয়া ভালবাসা
মা এর প্রতি সিনথিয়ার ভালবাসা
মায়া হলে মন বদলে ভালবাসা হয়, মায়ের ভালবাসা সন্তান তার গর্ভে থাকা অবস্থাতেই শুরু হয় কিন্তু এর শেষ নেই, সন্তান জন্ম হওয়ার পর মায়ের আদর স্নেহ ভালবাসা নিয়েই বড় হয়, তারপর ছেলের ভালবাসা প্রকৃতির কারনেই শেয়ারিং হতে থাকে, তাই অনেকের মায়ের প্রতি ভালবাসা নরবর হয়ে যায় কিন্তু পিতা মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব নরবর হলে চলবেনা। দায়িত্ববোধ থেকেই পিতামাতাকে শান্তির যায়গাতে রাখতেই হবে। সেটাই প্রতিটি সন্তানের কর্তব্য হওয়া উচিত। যেকোন বিশেষ দিবসেই হচ্ছে সাধারনের চেয়ে একটু বেশি স্বরন করা হয় বা উৎসব করা হয়। যেমন ঈদ, পুজা দিবস, আবার অন্যদিকে সেটা বেদনার দিবসও হতে পারে এটা ঠিক এ রকমেই আমার কাছে মনে হয়। একটা কথা আছে না ্খেটাপালটা আড়াল হলেই মনের আড়াল হয়। ভালবাসা ঘৃ্নাতে শেষ হয়। কিন্তু মায়ের কাছে তার সন্তান সব সময় রাজরানী বা রাজপুত্র। যে ভালবাসা ঘৃ্নাতে শেষ হয় না সেই ভালবাসা হল মায়ের ভালবাসা।
আসলে আজকে এই মা কে নিয়ে এই আর্টিক্যালটি লিখতে গিয়ে অনেক কিছুই মনে পড়ে যাচ্ছে। সত্যিকথা বলতে কি আমি যখন আমেরিকা ছিলাম তখন সেখানে দেখলাম আমাদের ভারতবর্ষ বা বাংলাদেশের সামাজিক কালচারে অনেক ভিন্নতা রয়েছে।যা আমরা সকলেই মোটামোটি ভাল ভাবে জানি তবে আমি আমেরিকাতে একটা জিনিস ভাল ভাবে লক্ষ্য করেছি যে, আমেরিকার পিতামাতারা তাদের সন্তানদের আমাদের দেশের পিতামাতার চেয়ে বেশি দেখভাল করে, এবং সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে এবং ১৮ বছর পার হওয়ার পর পশ্চিমা দেশের সন্তানেতা নিজের  উপর বেশি দায়িত্বশীল হয়ে যায়। মা-বাবা কে ছেড়ে জীবিকা বা  উচ্চ শিক্ষার আশায় অন্যত্র চলে যায়। সেটা সাধারনত সব দেশেই হয়ে থাকে কিন্তু যখন পিতা-মাতার বার্ধক্যতা চলে আসে তখনেই কিন্তু পিতা-মাতাকে সন্তানের কাছে রাখার উপযুক্ত সময়। তখনই হয় সমস্যা কিন্তু সেই সমস্যাকে প্রতিটি সন্তানের কর্তব্য অতিক্রম করা। সেটা পশ্চিমা কালচারই হোক আর আমাদের কালচারেই হোক, পিতা মাতাকে শেষ বয়সে কাছে রেখে সেবা যত্ন করে জন্মের ঋন পরিশোধ করা উচিত। 
বিদেশীরা তাদের গার্লফ্রেন্ডদের পাল্লায় পরে পিতা মাতাকে ভুলে গিয়ে আলাদা বাস করে, আর আমাদের দেশে পিতা মাতা ছেলেকে আদর করে বিয়ে করিয়ে নিজের বাসায় রাখে, পুত্রবধুকে নাতি নাতনিদেরকে আদর সোহাগ করে বড় করতে থাকে, তারপর কিছুদিন পর বউ পুরাতন হলেই, সংসার বউয়ের হাতে নিতে চায়, এই নিয়ে বউ শ্বাশুরীর মধ্যে শুরু হয় ঝগড়া, তারপর বউ জামাইকে উলটা পালটা বুঝিয়ে ছেলেকে পিতা-মাতা থেকে আলাদা করে অন্যত্র চলে যায় তাদেরকে একা রেখ, এই হলো আমাদের সমাজের চিত্র। ছেলে শক্তি দেখিয়ে পিতা মাতার সম্পদ দখল করে সংসার থেকে বিতারিত করে। তারপর নেমে আসে পিতামাতার অশহনিয় কস্ট। যা আমাদের সমাজে অধিকাংশ সংসারে ঘটছে। তা আসলেই আমাদের সংসারগুলিতে কাম্য নয়।
লেখকঃ আলম লিটন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *